Home | Menu | Poem | Jokes | Games | Science | Biography | Celibrity Video | Dictionary

খাদ্যে ভ্যাজাল এবং আমাদের দুরাবস্থা

অধিক মুনাফার আশায় এক শ্রেণীর ব্যবসায়ী খাবারে বিষাক্ত পদার্থ মেশাচ্ছে। বর্তমানে এমন কোনো পণ্য নেই যা ভেজালহীন। কারবাইড দিয়ে পাকানো হচ্ছে কলা, পেঁপে, আপেল, আনার, কমলালেবু, মাল্টা, আনারস, আম, আঙ্গুর। তরল দুধ নষ্ট হওয়া থেকে রক্ষা করতে মেশানো হচ্ছে ফরমালিন। একই কারণে মাছেও দেয়া হচ্ছে ফরমালিন । এই বিষক্রিয়ার ফলে সন্তান জন্ম নিচ্ছে বিভিন্ন প্রকার শারীরিক সমস্যা নিয়ে ।

১. মাছ কিনতে গেলে ফরমালিনের বিপদ আছে ।
২. চনা বুট ভাজিতে গত শতাব্দীর তেলের সংমিশ্রণ পাবেন ।
৩. মিনারেল যুক্ত পানি কিনে, নলকূপের পানি নিয়ে ঠকবেন ।
৪. বেগুনী, মরিচ, চমচমে কাপড়ের রং মিশ্রিত ভেজাল পাবেন ।
৫. ইফতারিতে শরবত পান করতে গেলে শরবতে ভেজাল পাবেন ।
৬. পাকা কলা কিনে ঘরে গিয়ে দেখবেন, গন্ধক যুক্ত কলা কিনে এনেছেন ।
৭. কমদামী ভোজ্য তেল কিনতে গিয়ে, পোড়া মবিলে উদর বরবাদ করবেন ।
৮. ইসবগুলের ভুষি খেতে গিয়ে, স-মিলের মরা কাঠের ভুষি খেয়ে জীবন হারাবেন ।
৯. বাচ্চার জীবন ধারণের জন্য তাজা দুধ পান করিয়েছেন, নিজেই জানেন না সেটাতে ফরমালিন ছিল ।
১০. বাচ্চার খুশির জন্য কেকের ক্রিম খাইয়েছেন, বুঝতেই পারেন নি সেটা সেকারিন ও অ-হজমী পাম অয়েল দিয়ে বানানো ।

পত্রিকা খুললেই চোখে পরে কার্বাইড মেশানো ফল বিক্রি হচ্ছে , রং মেশানো খাবার বিক্রি হচ্ছে ইত্যাদি । সরকারের এজেন্সিগুলো কমবেশী চেষ্টা করে যাচ্ছে এই অ্যাডাল্ট্রেট ফুড কন্ট্রোল করতে । কিন্তু পারছে কি ?
মোটের কথা ফরমালিন দিয়ে ফল পাঁকানো এটা এইসব অশিক্ষিত অর্ধশিক্ষিত লোকদের মাথায় আসল কিভাবে ? খাবারে ভেজাল মেশানো এইরকম মাত্রাতিরিক্ত বেড়েছে প্রায় ১০ বছর যাবত ?

আমাদের দেশে ৩৫০ টার উপরে ঔষুধ কোম্পানি আছে । দেশের ফার্মামার্কেট হল বৈধভাবে সারে তিন হাজার কোটি টাকার আর আসল মার্কেট সারে পাচ হাজারকোটি টাকার । মানে সারে তিন হোয়াইট বাকী ২ হাজার কোটি টাকার ব্ল্যাক মার্কেট ।

এই হিসাব সাধারণত কাগজে কলমে সারে তিন ধরা হয় । যদি সারে পাচও ধরা হয় তবুও এই মার্কেটের চারভাগের একভাগেরও কিছুটা বেশি দখল করে আছে বাংলাদেশী ভিত্তিক মাল্টিন্যাশনাল কম্পানি । আর বাকী তিনভাগ এই ৩৫০ টা কোম্পানী । অনেক কোম্পানী আছে যাদের ফ্যাক্টরীখুজে পাওয়া খুবই কঠিন ।

এই সমস্ত কোম্পানীকে বেচে থাকতে হয় ঔষুধ বিক্রি করে । দেশের মানুষের যদি অসুখ না হয় তবে এরা বেচবে কি ?

আমরা জানি এইসব কোম্পানীর মার্কেটিং স্ট্রাটেজী । কত ডেসপারেট এরা হতে পারে । সার্ভাইব করার জন্য হেন কাজ নেই যে এরা করবেনা ।

যে সমস্ত উপায়ে খাবারে ভেজাল মিশানো হয়

* রাজধানীতে প্রতিদিন খাদ্য হিসেবে গৃহীত ৫০ মেট্রিক টন শাকসবজির মধ্যে ৬০ ভাগই হচ্ছে কীটনাশক মেশানো

* মাছ ও দুধে সাধারণত ফরমালিন মেশানো হয় ।

* ভাজা খাবারে তেলের বদলে পোড়া লুব্রিকেটিং মানে পোরা মবিল । সয়াবিনে পামওয়েলের ব্যাপার তো পুরোনো এবং আমাদের অনেকটা অ্যাডজাষ্ট হয়ে যাবার মতন হয়েছে । যারা বাইক চালান তারা ভালো বুঝবেন । প্রতি মাসে মবিল পাল্টানোর সময় যে মবিলটা ফেলে দিয়ে আসেন সেইটা দিয়ে বিস্কুট , জিলাপী ইত্যাদি জিনিষ ভাজা হয় । এতে ভাজলে তা সহজে নরম হয়ে যায়না -- দীর্ঘক্ষন টনটনে থাকে । ঐ পোরামবিল দিয়ে ভাজলে তার এফেক্ট এমন হয় এই অশিক্ষিত লোকজন জানল কিভাবে ?

* ফুডগ্রেডের বদলে টেক্সটাইলে ব্যবহৃত রঙ ব্যাবহার করা হয় কাবারের ঔজ্জল্য ধরে রাখতে । পেয়াজু, বেগুনী, আলুর চপ কিংবা জিলাপীতে ব্যবহৃত হয় টেক্সটাইলের কাপড়ের রং । নষ্ট ও মেয়াদোর্ত্তীর্ণ ডালকে গুড়ো করে বেশনের গুড়া তৈরী,যা দিয়ে বেগুনী বানানো হয় । অনেক মিষ্টি দোকানগুলোতে ক্ষতিকর কেমিক্যাল ও রং দিয়ে মিষ্টি তৈরী হচ্ছে ।

গত ১২ আগষ্ট,২০১০ এ বাকলিয়া থানাধীন মিয়াখান নগর এলাকায় গলির ভিতরে তিনটি নকল মসলার মিলের সন্ধান পেয়েছে কোতোয়ালী থানা পুলিশ . অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে কেমিক্যালের রং, কালো রং, চালের ভূষি, পঁচা মরিচ, পটকা মরিচ মিশ্রন করার সময় পটিয়া হরিখাইন এলাকার আনোয়ার হোসেন (৩৮), সোলেমান (২০) ও এনামুল হক (৩০) কে হাতেনাতে গ্রেফতার করে। এ সময় ৪০ মণ ভেজাল মসলা ও মসলা তৈরীর উপকরণ জব্দ করা হয়।

* মুড়িকে আকারে বড় করতে ব্যবহৃত হচ্ছে ট্যানারির বিষাক্ত রাসায়নিক সোডিয়াম হাইড্রো সালফাইড ।

* চাল সাদা করতে ধান সিদ্ধ করার সময় ব্যবহৃত হচ্ছে ইউরিয়া সার ।

* তারপর আছে খোলাবাজারে চাপাতা । এইসব চাপাতার বেশীরবাগই হচ্ছে লাশের কফিনে ব্যবহৃত পুরানো চাপাতা । মৃত লাশকে তাজা রাখার জন্য কফিনে ব্যবহার করা হয় চাপাতা । যা কমদামে মার্কেটে ছাড়া হয় যা সেকারিন আর এক্সপায়ারড দুধ দিয়ে আমরা খাই ।

* এছারা বাচ্চাদের স্কুলের সামনে মিশ্রিত আচার, ঝালমুড়ি, আমড়া সব কিছুতেই কেমিক্যাল , রং দেওয়া হয় ।

* লটিয়া ও চিংড়ী মাছে লাল রং মেশানো হয় দৃষ্টি আকর্ষনের জন্যে । মুরগী মোরগ এমনকি দেশী মুরগীও পাথর খাইয়ে বাজারে নিয়ে আসে ওজনে বেশী হবার জন্যে । মাছের গায়ে রং । কেমনে আমরা এখনও বেঁচে আছি ? কেমনে বস্তির লোকজন বেঁচে আছে ?

* এর পর আছে কার্বাইড এর কথা । আপনি জান গ্রামে গন্জে যেখানে যত রিমোট এরিয়া আছে, কাউকে জিজ্ঞাসা করেন - ভাই কার্বাইড কি ? দেখবেন বলে দিয়েছে । মানে এমন অনেক অশিক্ষিত লোক পাবেন যারা আম , কলা পাকানোর কেমিক্যাল কার্বাইড চেনে । ফার্ষ্ট ওয়ার্ল্ডে এমন শিক্ষিত লোকও মনে হয় পাওয়া যাবেনা । কার্বাইডের পুরা নাম হল ক্যালসিয়াম কার্বাইড । এটা মূলত ব্যবহার হয় কারখানায় গ্যাস ঝালাইয়ের কাজে ।

এই যৌগের মধ্যে ক্যালসিয়াম সক্রিয় মৌলগুলোর মধ্যে অন্যতম । এর পারমানবিক সংখ্যা ২০। মানে ক্যালসিয়ামের একটি সক্রিয় যৌগ হলো ক্যালসিয়াম ও কার্বন নিয়ে গঠিত ক্যালসিয়াম কার্বাইড। এই রাসায়নিক পদার্থটিতে দুটি ক্ষতিকারক পদার্থ আর্সেনিক এবং ফসফরাস থাকে । মানে নলকূপ চেপে আপনার আর্সেনিক খাওয়ার কোনই দরকার নাই । খাবারের ভেজালের কারনে আপনি তা বিনা চেষ্টায় পাচ্ছেন ।

ইহা শুধু আমাদের স্বাস্থহানি নয় সুযোগ পাইলে জীবনও বিপন্ন করতে পারে। এবং আমি শুনছি এর ক্ষতি জেনেটিক কোডের মধ্যে মেসেজ ক্যারি করে যা বংশ পরম্পরায় চলে । মানে আপনার কার্বাইড খাওয়ার জন্যে আপনার সন্তান কার্বাইড যদিও না খায় ( অ্যাকসিডেন্টলী - কারন এই দেশে থাকবে কার্বাইড খাবেনা -- তাতো আর সম্ভব না ) এর এফেক্ট পাবে ।

কার্বাইড ব্যবহারের প্রথমেই এতে একটু পানির ছিটা দিতে হয়। আর ক্যালসিয়াম কার্বাইড জলীয় সংস্পর্শে এলেই অ্যাসিটিলিন গ্যাস নির্গত করে, যা পাকানোর সময় ফলের সাথে মিশে ক্ষতিকর ইথাইলিনে রূপান্তরিত হয়। অ্যাসিটিলিন ইথাইলিনে রূপান্তরিত হলে ফল খুব শিগগিরই পাকতে শুরু করে ।

মাত্র ১০-১২ ঘন্টায় কস্টি কাচা কলা পেঁকে লাল হয়ে যাবে । সন্ধ্যায় বা বিকালে কলা পেড়ে কার্বাইড মারলে সকালে বাজারে পাকা কলা নিয়ে হাজির হওয়া যায় ।

কলার কাঁদির নিচে কেরোসিনের ষ্টোভ জ্বালিয়ে হিট দিয়ে কলা পাকানো হচ্ছে। কেমিক্যাল মেশানো পানি ফলের গায়ে ছিটিয়ে দেয়া হচ্ছে । হিট দিয়ে পাকানো কলার ভেতরের অংশ শক্ত হয়ে পড়ছে। এসব কলা একেবারেই স্বাদহীন । আবার আমে কার্বাইড দেয়ার ফলে আমের কষ ও ঘামের সঙ্গে এ পদার্থ মিশে তৈরি হচ্ছে এসিটাইলিন গ্যাস । এ গ্যাস তাপ সৃষ্টি করছে । এ তাপের ফলে ১২ ঘণ্টার মধ্যে পেকে যাচ্ছে আম । আম,কলার দামের সাথে যোগ হচ্ছে এই কেরোসিন আর কার্বাইডেরও দাম ।

আম কলা পেপে কি না পাকানো হচ্ছে কার্বাইড দিয়ে ? আনারস বর করার জন্যে হরমোন ইনজেকশন হাকানো হচ্ছে আর তো কার্বাইড । এই অশিক্ষিত লোকেরা এই বিদ্যা পেল কোথায় আর এত কার্বাইড পায় কোথায় ? কারা দেয় ? খাবারে কার্বাইড মিশালে লাভ কার ?

সাধারণত খাদ্যবিজ্ঞানে ফলমূল পাকানোর জন্য কার্বাইড ব্যবহারের অনুমোদন আছে, তবে সেটারও মাত্রা আছে । অর্থাৎ ওই পরিমাণ কার্বাইড ব্যবহার করলে সাধারণত স্বাস্থ্যঝুঁকি থাকবে না । তাছাড়া কার্বাইড ছাড়া ফলমূল পাকালে তা তাড়াতাড়ি পঁচে যায় বলে পৃথিবীতে পরিমিত কার্বাইড ব্যবহারের আইন আছে।

বিশুদ্ধ খাদ্য অধ্যাদেশ ১৯৫৯ (সংশোধনী ২০০৩)-এর ৬(এ) ধারায় ক্যালসিয়াম কার্বাইড ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে । কেউ তা করলে তার ১৫ হাজার টাকা জরিমানা ও ছয় মাসের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে । দ্বিতীয়বার একই অপরাধ করলে দুই বছরের কারাদণ্ড ও দুই লাখ টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে ।

* কার্বাইডের অস্তিত্ব শনাক্তের জন্য আড়তগুলোর আম ডিস্টিল ওয়াটারে ডুবিয়ে তাতে ক্যালসিয়াম ইনডিকেটর দেওয়া হয়। কার্বাইড দিয়ে পাকানো আম কিছুক্ষণ পর সবুজ রং ধারণ করে।

* ক্যালসিয়াম কার্বাইড বেশি পরিমাণে মানুষের শরীরে প্রবেশ করলে পাকস্থলি ও অন্ত্রনালিতে ক্যানসারও হতে পারে । কার্বাইড মিশ্রিত ফল খেলে পাকস্থলিতে প্রদাহ ও ঘা, বদহজম, পেটে গ্যাস ও কোষ্ঠকাঠিন্য হয় ।

* বাজারে অ্যান্টি- আলসারেন্টের সেল ফিগার আর তার রাইজিং কার্ভ দেখেন । ডমপেরিডনের সেল ফিগার দেখেন । দেশের ভবিষ্যত টের পাবেন ।


চলবে ''''

No comments:

Post a Comment

স্পাম থেকে বিরত থাকুন । কোন লিংক গ্রহন যোগ্য নয় ।